বড়লোক হওয়ার জন্য মানুষের রক্ত শোষন করা ঠিক না : রাষ্ট্রপতি

বড়লোক হওয়ার জন্য মানুষের রক্ত শোষন করা ঠিক না : রাষ্ট্রপতি
বড়লোক হওয়ার জন্য মানুষের রক্ত শোষন করা ঠিক না- রাষ্ট্রপতি
বড়লোক হওয়ার জন্য মানুষের রক্ত শোষন করা ঠিক না : রাষ্ট্রপতি

পোস্টকার্ড ডেস্ক ।।

বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন , মানুষের শোষন করে রাতারাতি বড়লোক হওয়া ঠিক না। মানুষকে ঠকিয়ে খাওয়া কোন ধর্মে বলে না। ইসলাম ধর্মে এগুলো স্ট্রিক্টলি বলে দিয়েছে।কিন্তু এগুলো করে যাচ্ছে । তিনি রাজনৈতিক নেতাসহ সকল জনগনকে ব্যবসায়ীদের বোঝানোর জন্য অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ ও চালের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, যারা দাম বাড়িয়ে মানুষকে ঠকাচ্ছে তাদের বোঝাতে হবে। রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্য এসব কাজ ঠিকনা।

তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( চুয়েট) এর চতুর্থ সমাবর্তন উৎসবে সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করা হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হযেছে।


তিনি বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়। বন্ধ হয় মানুষের বাক-মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতা। তবে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দেশের গণতন্ত্র আজ মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল তা আজও আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে রূপকল্প-২০২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ সহ শতবছর মেয়াদী ব-দ্বীপ ২১০০ পরিকল্পনা নিয়েছেন।

‘এসব মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আজকের শিক্ষিত তরুণরাই এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশের রয়েছে বিপুল মানব সম্পদ। উর্বর কৃষিভূমি ও সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ। জনবহুল এ দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উপায়ে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার।’

তিনি বলেন, প্রকৌশলীগণ উন্নয়নের কারিগর। তাদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা ও চেতনায় থাকতে হবে দূরদর্শী চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

‘আগামী ২০৫০ সালে এবং ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা বাংলাদেশের অবস্থান কোন স্তরে পৌঁছাবে- তা বিবেচনায় রেখেই প্রকৌশলীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’

মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। আত্মমর্যাদা সমুন্নত রেখে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।’

‘আমি আশা করি, আজকের নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করবে। তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও লব্ধ জ্ঞানকে এ লক্ষ্যে কাজে লাগাবে।’

বক্তব্যে তিনি শিক্ষাথীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু ডিগ্রি পাওয়া নয় । মানুষের জন্যও কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মেয়েদের কম  গোল্ড মেডেল পাওয়া নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের টুকিটাকি

ফজলে করিম কডে?

রাষ্ট্রপতি চুয়েটের সমাবর্তন উৎসবের এক পর্যায়ে বলেন, ফজলে করিম কডে? আঁরতে কিছু  গুরা কচু লাগবো।এর লই শুধু ফরমালিন নাই। আর সবখানে ফরমালিন আছে।

আঁই ন ডরাই। ভালা সিনেমা আইছে কিন্ত।আমি চাই এই  চিটাঙে খালি মেয়েরা বলছে যে আঁই নডরাই , ছেলেরাও আঁই নডরাই  কইয়া মাঠে নাইমা পড়তে হবে এই ফরমালিনের বিরুদ্ধে , এই মজুদদারদের বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক নেতাদেরকে শুধু উন্নয়নমূলক কাজ নয়, মানুষকে মোটিভেট করা, এইরকম মজুদারদারদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে সঠিক পথে আনা আপনাদের একটা পবিত্র দায়িত্ব। এইগুলো আপনার পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ ও চালের দাম বৃদ্ধি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন।