কাজের পরিধি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বেড়েছে : সুষমা

কাজের পরিধি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বেড়েছে : সুষমা
কাজের পরিধি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বেড়েছে : সুষমা

বিনোদন ডেস্ক ।।

অনন্য মামুনের ‘নবাব এলএলবি’ ছবিতে যুক্ত হয়েছেন সুষমা।এ প্রসঙ্গ ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক।

‘নবাব এলএলবি’ ছবিতে যুক্ত হলেন . . .
ছবিটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের জন্য বানানো হচ্ছে। সোমবার থেকে শুটিং শুরু হয়েছে। আমার শুটিং আরও কদিন পর।

আপনার অন্যান্য সিনেমার কী খবর?
নুরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’ ছবিটির সম্পাদনার কাজ চলছে। সহসাই হয়তো মুক্তি পাবে। গাজী রাকায়েত ভাইয়ের ‘গোর’ করোনা না হলে চলতি বছরই মুক্তি পেত। এই ছবিতে আমার চরিত্রটি নিয়ে বেশ আশাবাদী। ছবিটি সিনেমাহলেই মুক্তি দিবে। ‘পেয়ারার সুবাস’ ওয়েবে দেয় কিনা বোঝা যাচ্ছে না। এখন তো আমাদের বিকল্প ভাবতে হবে। কখন সব স্বাভাবিক হবে বলা তো যাচ্ছে না।

নাটক করছেন না?
এখন বেছে বেছে কাজ করছি। পেশাগত কারণে ইচ্ছের বাইরেও কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। করোনাকালে চার মাস কোনও কাজ করা হয়নি। কিন্তু জীবন চলেছে। তখন আমার মনে হয়েছে আগামীতে কাজগুলো করতে ইচ্ছে করবে সেগুলোই করব। সে জায়গা থেকেই বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আফসানা মিমির সাথে একটা কাজের কথা চলছে।

গত ঈদে কয়েকটি কাজ করেছেন। করোনাকালে কাজের কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
আমি বেশি কাজ করিনি। যে টিম করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে কাজ করেছে তাদের কাজ করেছি। চরিত্র নিয়ে তাই ভাবার বেশি সুযোগ ছিলো না। আগে কাজ করতে যে ভালো লাগার বিষয় ছিলো এবার তা ছিলো না। এতকিছু মাথায় নিয়ে অভিনয়ে ঢোকা যায় না।

করোনাকালে মঞ্চ চর্চা কেমন চলছে?
আমাদের ‘দেশ নাটক’ প্রতি সপ্তাহে দুই দিন করে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন মেথড নিয়ে ক্লাস হচ্ছে। কখনও বন্যা আপা ক্লাস নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নিচ্ছেন। মাসুম রেজা ভাই ইতোমধ্যে তিনটি স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলেছেন। সেগুলো অনলাইনে চর্চাও করা হচ্ছে। কাস্টিংও ঠিকঠাক করে অনলাইনে যতটুকু করা যায় কাজ করছি। অন্য সময়ের চেয়ে করোনাকালে দলকে বেশি সময় দেয়া হচ্ছে।

টেলিভিশন নাটকের শুটিং হচ্ছে। সিনেমারও টুকটাক কাজ চলছে। মঞ্চ কবে স্বাভাবিক হতে পারে?
ইনডোর ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের মঞ্চনাটক ইনডোরেই করতে হয়। তবে সমস্যার সমাধান কিছু না কিছু তো বের হবেই। সরকার শিল্পকলা খুলে দিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করার চিন্তা ভাবনা আছে।

ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আমি ভীষণ আশাবাদী। এরকম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের কাজের পরিধি বেড়ে গেলো। কারণ ওয়েব প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত। যারা মন দিয়ে অভিনয় করতে চায় তাদের জন্য দারুণ সুযোগ। তথাকথিত প্রেমের গল্প ওয়েবে তেমনটা হবে না। অন্যরকম গল্প নিয়ে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলো।

কিছু কনটেন্ট নিয়ে তো সমালোচনাও হচ্ছে . . .
বিশ্ব আমাদের হাতের মুঠোয়। ওয়েবে ঢুকলে ইচ্ছে করলেই দর্শক প্রাপ্তবয়স্কদের দৃশ্য দেখতে পারে। তখন তো মনে কোনও প্রশ্ন জাগছে না। আমাদের যে কনটেন্টগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সেগুলোর নির্মাতারা যথেষ্ট মেধাবী। আমার কাছে মনে হয় দৃশ্যগুলো যুক্তিসংগত কী না সেটা দেখতে হবে। কাহিনির প্রয়োজনে শয্যাদৃশ্য দেখাতে হলে নির্মাতা ঠিক করবেন কীভাবে দেখাবেন। সেটা বাদে গল্প না দাঁড়ালে দর্শক কিন্তু কথা বলবে না। যদি দর্শক মনে করে দৃশ্যটি আরোপিত তাহলে সমালোচনা করবে। শৈল্পিকভাবে খোলামেলা দৃশ্য কাহিনির প্রয়োজনে দেখানো যেতে পারে। তা ছাড়া দর্শক বোঝে কোনটা প্রয়োজন কোনটা অপ্রয়োজন।

আপনার করোনাকাল কেমন কেটেছে?
নিজেকে সময় দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। অনেক বছর বই পড়ার অভ্যাস চলে গিয়েছিলো। করোনাকালে অনেকগুলো বই পড়েছি। আমি অনেকগুলো কবিতা লিখেছি। ছোট্ট একটা গল্প লিখেছি। যা নিয়ে শর্টফিল্ম বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আফসানা মিমি। মাসুম রেজা ভাইও উৎসাহ দিচ্ছেন। কবিতা পোস্ট করার পর মন্তব্য পেলে ভালো লাগে। ছবির মন্তব্যেও এত ভালো লাগা কাজ করে না।